ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক: জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের আশ্বাস তিন মাস জ্বালানি সুবিধা নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অত্যাধুনিক স্পোর্টস ভিলেজসহ আন্তর্জাতিক মানে ফিরছে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর রংপুরের উন্নয়নে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের অঙ্গীকার ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ৩,৩৭৫: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জীবনবৃত্তান্ত সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে সম্প্রীতির নতুন বাংলাদেশ : পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বিএমইউর ৫৩ শিক্ষক-চিকিৎসক পেলেন গবেষণা মঞ্জুরি বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময়

গরমে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া সমাধান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘামের নিজস্ব কোনো দুর্গন্ধ নেই। কিন্তু ঘাম ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গেলে তখনই বিরক্তিকর গন্ধ তৈরি হয়।

 

বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে ঘামের দুর্গন্ধ খুবই সাধারণ সমস্যা।

 

এটি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক সময় মানুষের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। পরিপাটি পোশাক বা স্মার্ট লুক থাকলেও শরীরের দুর্গন্ধ একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দামি পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে ঘামের দুর্গন্ধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

তাই ব্যয়বহুল পণ্যের বদলে সহজ কিছু অভ্যাসই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

 

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

 

সমাধান শুরু করতে পারেন শরীরের ভেতর থেকেই। খাবার সরাসরি শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত রসুন-পেঁয়াজ, অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার, প্রসেসড মাছ-মাংস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে পারেন।

 

সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, পর্যাপ্ত পানি (প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার), দই (প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া) পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ খাদ্যাভ্যাস শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।

 

লেবু

 

সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাবেন লেবু। এর রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। গোসলের আগে বগলে প্রয়োগ করে ১০ মিনিট রাখতে পারেন।

 

ফিটকিরি

 

ফিটকিরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। গোসলের পানিতে ফিটকিরির গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিতে পারেন।

 

বেকিং সোডা

 

বেকিং সোডা ঘাম শোষণ করে ও পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘাম ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতেই পারে।

 

আপেল সাইডার ভিনেগার

 

এই উপাদান ব্যাকটেরিয়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এটিও পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তুলায় ভিজিয়ে যে স্থানে ঘাম বেশি হয় সেখানে ব্যবহার করতে পারেন।

 

ইউক্যালিপটাস তেল

 

এই তেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিতে পারেন এই তেল। এই অভ্যাস আপনার ত্বক সতেজ রাখতে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

 

গোসল

 

প্রতিদিন অন্তত গোসল করুন। গোসলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

পোশাক

 

ঘাম ও দুর্গন্ধের সমস্যা দূর করতে সঠিক পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ঢিলেঢালা, পাতলা, সুতি, লিনেন, খাদি বা রেয়নের মতো বাতাস চলাচল করতে পারে, এমন কাপড় পরতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যবহার করা কাপড় ধুয়ে দিতে হবে। ভেজা কাপড় ভালো মতো রোদে শুকিয়ে নিয়ে হবে। জুতা নিয়মিত পরিষ্কার করা, ব্যবহারের পর ভালোমতো শুকিয়ে নিতে হবে।

 

অনেক সময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস থেকেও ঘাম বেশি হতে পারে। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্গন্ধ বা ঘামের সমস্যা হলে অবহেলা না করে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ঘাম স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

 

সূত্র: আজকাল ডট ইন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গরমে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া সমাধান

আপডেট সময় : ০২:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

গরমে বাইরে বের হলেই শরীর ঘামে ভিজে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘামের নিজস্ব কোনো দুর্গন্ধ নেই। কিন্তু ঘাম ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিশে গেলে তখনই বিরক্তিকর গন্ধ তৈরি হয়।

 

বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে ঘামের দুর্গন্ধ খুবই সাধারণ সমস্যা।

 

এটি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, অনেক সময় মানুষের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। পরিপাটি পোশাক বা স্মার্ট লুক থাকলেও শরীরের দুর্গন্ধ একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দামি পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন। তবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় মেনে চললে ঘামের দুর্গন্ধ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

তাই ব্যয়বহুল পণ্যের বদলে সহজ কিছু অভ্যাসই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

 

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

 

সমাধান শুরু করতে পারেন শরীরের ভেতর থেকেই। খাবার সরাসরি শরীরের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত রসুন-পেঁয়াজ, অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার, প্রসেসড মাছ-মাংস, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে পারেন।

 

সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, পর্যাপ্ত পানি (প্রতিদিন ২.৫-৩ লিটার), দই (প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া) পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ খাদ্যাভ্যাস শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক।

 

লেবু

 

সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাবেন লেবু। এর রস প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল। গোসলের আগে বগলে প্রয়োগ করে ১০ মিনিট রাখতে পারেন।

 

ফিটকিরি

 

ফিটকিরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের জন্য সুপরিচিত। এটি ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। গোসলের পানিতে ফিটকিরির গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিতে পারেন।

 

বেকিং সোডা

 

বেকিং সোডা ঘাম শোষণ করে ও পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে। সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘাম ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতেই পারে।

 

আপেল সাইডার ভিনেগার

 

এই উপাদান ব্যাকটেরিয়া কমাতে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এটিও পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তুলায় ভিজিয়ে যে স্থানে ঘাম বেশি হয় সেখানে ব্যবহার করতে পারেন।

 

ইউক্যালিপটাস তেল

 

এই তেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিতে পারেন এই তেল। এই অভ্যাস আপনার ত্বক সতেজ রাখতে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

 

গোসল

 

প্রতিদিন অন্তত গোসল করুন। গোসলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

পোশাক

 

ঘাম ও দুর্গন্ধের সমস্যা দূর করতে সঠিক পোশাক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ঢিলেঢালা, পাতলা, সুতি, লিনেন, খাদি বা রেয়নের মতো বাতাস চলাচল করতে পারে, এমন কাপড় পরতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যবহার করা কাপড় ধুয়ে দিতে হবে। ভেজা কাপড় ভালো মতো রোদে শুকিয়ে নিয়ে হবে। জুতা নিয়মিত পরিষ্কার করা, ব্যবহারের পর ভালোমতো শুকিয়ে নিতে হবে।

 

অনেক সময় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস থেকেও ঘাম বেশি হতে পারে। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্গন্ধ বা ঘামের সমস্যা হলে অবহেলা না করে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ঘাম স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

 

সূত্র: আজকাল ডট ইন