ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক: জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের আশ্বাস তিন মাস জ্বালানি সুবিধা নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অত্যাধুনিক স্পোর্টস ভিলেজসহ আন্তর্জাতিক মানে ফিরছে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর রংপুরের উন্নয়নে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের অঙ্গীকার ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ৩,৩৭৫: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জীবনবৃত্তান্ত সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে সম্প্রীতির নতুন বাংলাদেশ : পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বিএমইউর ৫৩ শিক্ষক-চিকিৎসক পেলেন গবেষণা মঞ্জুরি বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময়

বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৫৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনেকেরই ধারণা, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং ধূমপান বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলেন, তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশ্বাস পুরোপুরি সঠিক নয়। বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে হার্টের গুরুতর সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে, যা আচমকাই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

 

অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ ‘সুস্থ থাকা’ বলতে বোঝেন—ওজন ঠিক আছে, নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, বড় কোনো রোগ নেই।

 

কিন্তু হার্টের সুস্থতা শুধু এই কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না। রক্তনালির ভেতরে ধীরে ধীরে ফ্যাট জমা, কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা জিনগত কারণ—সব মিলিয়েই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের কথায়, অনেক সময় হার্টের ধমনিতে ধীরে ধীরে ব্লক তৈরি হলেও তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবেন।

 

কিন্তু হঠাৎ একদিন বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি শুরু হয় এবং সেটাই হার্ট অ্যাটাকের রূপ নিতে পারে। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে—নিয়মিত শরীরচর্চা করে, তেল-চর্বি কম খেয়েও কেন হার্ট অ্যাটাক হলো?

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো জীবনযাপন ঝুঁকি কমায় ঠিকই, তবে শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। বিশেষ করে যাদের পরিবারে আগে হার্টের রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। জিনগত কারণে অল্প বয়সেই অনেকের হার্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যদিও বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সারা বিশ্বে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক বর্তমানে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। উদ্বেগের বিষয় হলো, আগের তুলনায় এখন কম বয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

 

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু শরীরচর্চা করলেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। বছরে অন্তত একবার পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

 

কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং হার্ট সংক্রান্ত বিশেষ পরীক্ষা করালে ঝুঁকি আগেভাগেই ধরা পড়ে। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের আরো বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো ও পর্যাপ্ত ঘুম হার্ট সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

হার্ট অ্যাটাক শুধু অসুস্থ বা বয়স্কদের সমস্যা নয়। সুস্থ দেখালেও ভেতরের বিপদ নীরবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই হার্টকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

 

সূত্র : আজকাল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০২:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

অনেকেরই ধারণা, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং ধূমপান বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলেন, তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশ্বাস পুরোপুরি সঠিক নয়। বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও ভেতরে ভেতরে হার্টের গুরুতর সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে, যা আচমকাই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

 

অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ ‘সুস্থ থাকা’ বলতে বোঝেন—ওজন ঠিক আছে, নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, বড় কোনো রোগ নেই।

 

কিন্তু হার্টের সুস্থতা শুধু এই কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না। রক্তনালির ভেতরে ধীরে ধীরে ফ্যাট জমা, কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা জিনগত কারণ—সব মিলিয়েই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়।

চিকিৎসকদের কথায়, অনেক সময় হার্টের ধমনিতে ধীরে ধীরে ব্লক তৈরি হলেও তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবেন।

 

কিন্তু হঠাৎ একদিন বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি শুরু হয় এবং সেটাই হার্ট অ্যাটাকের রূপ নিতে পারে। তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে—নিয়মিত শরীরচর্চা করে, তেল-চর্বি কম খেয়েও কেন হার্ট অ্যাটাক হলো?

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো জীবনযাপন ঝুঁকি কমায় ঠিকই, তবে শতভাগ সুরক্ষা দেয় না। বিশেষ করে যাদের পরিবারে আগে হার্টের রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। জিনগত কারণে অল্প বয়সেই অনেকের হার্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যদিও বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সারা বিশ্বে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক বর্তমানে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। উদ্বেগের বিষয় হলো, আগের তুলনায় এখন কম বয়সীরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

 

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু শরীরচর্চা করলেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। বছরে অন্তত একবার পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

 

কোলেস্টেরল, রক্তচাপ এবং হার্ট সংক্রান্ত বিশেষ পরীক্ষা করালে ঝুঁকি আগেভাগেই ধরা পড়ে। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের আরো বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো ও পর্যাপ্ত ঘুম হার্ট সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

হার্ট অ্যাটাক শুধু অসুস্থ বা বয়স্কদের সমস্যা নয়। সুস্থ দেখালেও ভেতরের বিপদ নীরবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই হার্টকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

 

সূত্র : আজকাল