ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক: জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপের আশ্বাস তিন মাস জ্বালানি সুবিধা নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম অত্যাধুনিক স্পোর্টস ভিলেজসহ আন্তর্জাতিক মানে ফিরছে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর রংপুরের উন্নয়নে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকের অঙ্গীকার ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত ৩,৩৭৫: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জীবনবৃত্তান্ত সব জাতিসত্তার ঐক্যে গড়ে উঠবে সম্প্রীতির নতুন বাংলাদেশ : পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বিএমইউর ৫৩ শিক্ষক-চিকিৎসক পেলেন গবেষণা মঞ্জুরি বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরিবেশ মন্ত্রীর মতবিনিময়

কবিতা-পলাশ-অঞ্জনার সিন্ডিকেটজুড়ে প্রভাববিস্তার, দীর্ঘ সময় যাবত ঘুষবাণিজ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে মাতোয়ারা সাভার সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‎ সংস্কারের নামে ঘুষবাণিজ্যে এখনো লিপ্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কার্মচারী। এর মধ্যে অন্যতম অফিস সহকারী পলাশ, মোহরার কবিতা রানি পাল আর অঞ্জনা রানী মজুমদার ও নেপথ্যে সাভার সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন।

‎ঢাকার লাগোয়া এলাকা সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিস সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন সেখানে দুই থেকে আড়াই শ বিভিন্ন শ্রেণির দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা লোকজনের মধ্যে স্থানীয়দের চেয়ে বহিরাগতদের সংখ্যাই বেশি। অনেকেই অগ্নিমূল্যের কারণে ঢাকার ভেতরে জমি কিনতে পারেন না। মূলত তাঁরাই সাভার এলাকায় ছুটে যান। সহনীয় মূল্যে জমিও পেয়ে যান। কিন্তু তা রেজিস্ট্রি করতে আসার পরই শুরু হয় নানা বিপত্তি। টেবিলে টেবিলে ঘুষ, তবে এ শব্দটির বিকল্প উচ্চারণে বলতে হয় ফিস দিচ্ছি। এমন অভিনব কায়দায় আদায় হচ্ছে ঘুষ। কেরানি, মোহরার, টিসি মোহরার, এক্সট্রা মোহরার —সবাই হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে কথিত সেই ফিসের জন্য। তবে সবচেয়ে বড় ফিসটি দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রারকে। তবে সেটা সরাসরি দেওয়ার সৌভাগ্য হয় না। সেটা গ্রহণ করার জন্য তাঁর মনোনীত অফিস সহকারী পলাশ ও মোহরার সিন্ডিকেটের সদস্যরা রয়েছেন।

‎এদের কাছেই সাবরেজিস্ট্রারের সব রকম ফিসের হিসাব-নিকাশ। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় ব্রিফকেসে করে সে ফিস গাড়িতে তুলে দেওয়ার পর তাদের দায়িত্ব শেষ হয়। সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পূর্বের সাব রেজিস্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ও একাধিক অনিয়মে জর্জরিত ছিলো এবং বর্তমান সাব রেজিস্ট্রারও দায়িত্বে এসেই পলাশ সিন্ডিকেটে মাতোয়ারা।

‎এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক টিমের তদন্ত চিত্রে উঠে আসা তথ্য বলছে, দাতাগ্রহিতার মধ্যে জমির প্রকৃত বিনিময় মূল্য বেশি হলেও তা সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের সহায়তায় কম দেখানো হয়। যে কারণে প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন ফি হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দলিলে লিখিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা বিক্রেতার পক্ষে কালো টাকায় পরিণত হয়। একইভাবে ক্রেতার কালো টাকাও সাদা হয়ে যায়। এতে করেই ত্রিমুখী দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে দলিল রেজিস্ট্রেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে।

‎শুধু তাই নয়, নৈশ প্রহরী থেকে সহকারী, সহকারী থেকে উমেদার, উমেদার থেকে নকল নবিশ আর দলিল লেখক সমিতির- প্রতি দলিলে অফিস খরচের নামে অতিরিক্ত টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। টাকা না দিলে দলিলে ইচ্ছা করে ভুল করা কিংবা দলিল আটকে রেখে হয়রানির ঘটনাও ঘটে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী, মোহরার সিন্ডিকেট ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতি নেতাদের সখ্যতায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটে গড়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কবিতা-পলাশ-অঞ্জনার সিন্ডিকেটজুড়ে প্রভাববিস্তার, দীর্ঘ সময় যাবত ঘুষবাণিজ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে মাতোয়ারা সাভার সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন 

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

‎ সংস্কারের নামে ঘুষবাণিজ্যে এখনো লিপ্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কার্মচারী। এর মধ্যে অন্যতম অফিস সহকারী পলাশ, মোহরার কবিতা রানি পাল আর অঞ্জনা রানী মজুমদার ও নেপথ্যে সাভার সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন।

‎ঢাকার লাগোয়া এলাকা সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিস সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন সেখানে দুই থেকে আড়াই শ বিভিন্ন শ্রেণির দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসা লোকজনের মধ্যে স্থানীয়দের চেয়ে বহিরাগতদের সংখ্যাই বেশি। অনেকেই অগ্নিমূল্যের কারণে ঢাকার ভেতরে জমি কিনতে পারেন না। মূলত তাঁরাই সাভার এলাকায় ছুটে যান। সহনীয় মূল্যে জমিও পেয়ে যান। কিন্তু তা রেজিস্ট্রি করতে আসার পরই শুরু হয় নানা বিপত্তি। টেবিলে টেবিলে ঘুষ, তবে এ শব্দটির বিকল্প উচ্চারণে বলতে হয় ফিস দিচ্ছি। এমন অভিনব কায়দায় আদায় হচ্ছে ঘুষ। কেরানি, মোহরার, টিসি মোহরার, এক্সট্রা মোহরার —সবাই হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে কথিত সেই ফিসের জন্য। তবে সবচেয়ে বড় ফিসটি দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রারকে। তবে সেটা সরাসরি দেওয়ার সৌভাগ্য হয় না। সেটা গ্রহণ করার জন্য তাঁর মনোনীত অফিস সহকারী পলাশ ও মোহরার সিন্ডিকেটের সদস্যরা রয়েছেন।

‎এদের কাছেই সাবরেজিস্ট্রারের সব রকম ফিসের হিসাব-নিকাশ। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার সময় ব্রিফকেসে করে সে ফিস গাড়িতে তুলে দেওয়ার পর তাদের দায়িত্ব শেষ হয়। সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে পূর্বের সাব রেজিস্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ও একাধিক অনিয়মে জর্জরিত ছিলো এবং বর্তমান সাব রেজিস্ট্রারও দায়িত্বে এসেই পলাশ সিন্ডিকেটে মাতোয়ারা।

‎এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক টিমের তদন্ত চিত্রে উঠে আসা তথ্য বলছে, দাতাগ্রহিতার মধ্যে জমির প্রকৃত বিনিময় মূল্য বেশি হলেও তা সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের সহায়তায় কম দেখানো হয়। যে কারণে প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন ফি হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দলিলে লিখিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা বিক্রেতার পক্ষে কালো টাকায় পরিণত হয়। একইভাবে ক্রেতার কালো টাকাও সাদা হয়ে যায়। এতে করেই ত্রিমুখী দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে দলিল রেজিস্ট্রেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছে।

‎শুধু তাই নয়, নৈশ প্রহরী থেকে সহকারী, সহকারী থেকে উমেদার, উমেদার থেকে নকল নবিশ আর দলিল লেখক সমিতির- প্রতি দলিলে অফিস খরচের নামে অতিরিক্ত টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। টাকা না দিলে দলিলে ইচ্ছা করে ভুল করা কিংবা দলিল আটকে রেখে হয়রানির ঘটনাও ঘটে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী, মোহরার সিন্ডিকেট ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতি নেতাদের সখ্যতায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটে গড়ে উঠেছে।