রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের মচ্ছব: নোয়াখালী সদর সাব রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ বেপরোয়া
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
* ঘুষ দিলে সেবা মেলে।
* পুর্বের কর্মস্থল টাঙ্গাইল সদরে থাকাকালীন সময়ে একচিটিয়া ভাবে করেছে অনিয়ম, নিজ জেলাতে প্রাইজ পোস্টিং।
* কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অবস্থা আঙুল ফুলে কলা গাছ।
জমি নিবন্ধন সেবাখাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সরকার বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহনের পরও এ খাতে প্রযুক্তিতে নতুন আশার আলো যেনো কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যার কারনে জমি নিবন্ধন সেক্টরে দুর্নীতি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল থেকে উচ্চমহল পর্যন্ত যেন ঘুষের হাট। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি বলছে, সেবা খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় বিচারিক সেবায়।
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত রেজিস্ট্রেশন বিভাগ। এনবিআরের পরেই এর অবস্থান। ৫ই আগস্ট বিপ্লবের পর বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে যেখানে সংস্কার চলছে বড় চ্যালেঞ্জিং নিয়ে। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসেও সংস্কারের নামে ঘুষবাণিজ্যে এখনো লিপ্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এর মধ্যে অন্যতম নোয়াখালী সদর সাব রেজিস্টার মো: বুলবুল আহমেদ। নিজ জেলা টাঙ্গাইলে, অভিযোগ রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল সম্পাদন, টাকার বিনিময়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ফয়সাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হয়রানি এবং প্রতি দলিলে ১% এরও বেশি ঘুষ নেন তিনি। না দিলে কাজ তো হবেই না, উল্টো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। অবশেষে বাধ্য হয়ে সেবাগ্রাহকদের ঘুষ দিয়েই ফিরতে হবে। অভিযোগগুলোও দীর্ঘদিনের।
টিআইবি’র সেবা খাতে দুর্নীতি নিয়ে জাতীয় জরিপ ২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, ‘২০২৩ সালে ঘুষের শিকার হয়েছে দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ পরিবার। উমেদার, অফিস সহকারী, নকল নবিশ থেকে শুরু করে অসাধু দলিল লেখকরা ঘুষ ছাড়া আবেদনই গ্রহণ করেন না। ঘুষ যে শুধু দলিল সম্পাদনেই নেওয়া হয়, তাও নয়। (নকল) কপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র তুলতে গেলেও মোহরানা দিতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে সমিতির নাম ভাঙিয়ে প্রতি নকলের কপিতে ১ হাজার থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে অন্যান্য সেবাখাতেও দিতে হয় কমিশন, আছে সেবা অনুযায়ী নির্ধারিত অংক! অদৃশ্য এই অনৈতিক অর্থ আদায়ের তালিকা পরিণত হয়েছে নিজস্ব নিয়মে।
দাতাগ্রহীতার মধ্যে জমির প্রকৃত বিনিময় মূল্য বেশি হলেও তা সাব-রেজিস্ট্রার, ফয়সাল সিন্ডিকেট ও দলিল লেখকদের সহায়তায় কম দেখানো হয়। যে কারণে প্রকৃত রেজিস্ট্রেশন ফি হতে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দলিলে লিখিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা বিক্রেতার পক্ষে কালো টাকায় পরিণত হয়। একইভাবে ক্রেতার কালো টাকাও সাদা হয়ে যায়। এতে করেই ত্রিমুখী দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দপ্তরের অফিস সহকারী, মোহরারগন ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতি নেতাদের সখ্যতায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটে গড়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী, মোহরার ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতি নেতাদের সখ্যতায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটে গড়ে উঠেছে।












