ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ” তুরস্কে ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত বিষাক্ত মদে পর্যটক মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি লাওস যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব খাতা কলম তৈরি করে সুনাম কুড়িয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শরিফুল বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা আই হ্যাভ এ প্ল্যান’- ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীও তারেক রহমানের ভাষায় আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে : তথ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ: সড়ক প্রতিমন্ত্রী

স্কুল নয় যেন কোচিং সেন্টার: ৮ শিক্ষকের ৬ জনই স্কুলে পড়ান প্রাইভেট

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্কুল নয় যেন কোচিং সেন্টার: প্রাথমিকে পড়তে হয় মাসিক বেতন দিয়ে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো অনেক আগে থেকে নিষিদ্ধ থাকলে মানেন না ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ৮ জন শিক্ষকের ৬ জনই শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ান।

 

এদের কয়েকজন আবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিক্ষার্থীদের খাবার ও খেলাধুলার সুজোগ না দিয়ে ঐ সময় প্রাইভেট পড়ান। আবার কেউ ক্লাস না থাকার সময়ে প্রাইভেট পড়ান। ক্লাস টাইমের বাইরে শ্রেনী কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

 

তবে সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে ঐ বিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে অধ্যয়ন করবে এটাই সরকারি নিয়ম। তবে সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়তো বাংলাদেশের একমাত্র স্কুল যেখানে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দিয়ে লেখাপড়া করতে হয়।

 

শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ মিলে খরচ করেন এবং কিছু টাকা দিয়ে দুজন প্যারা শিক্ষক রাখা হয়েছে, তাদের নামমাত্র কিছু বেতন দেওয়া হয়।

 

বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক এর মধ্যে দুটি শিক্ষক দম্পতি রয়েছে। নাজমা আক্তার প্রধান শিক্ষক তিনি কোন প্রাইভেট পড়ান না, তবে কাউকে নিষেধও করেন না। অভিযোগ রয়েছে ঐ শিক্ষকদের কাছ থেকে নানা সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়া সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার দম্পতি প্রতিদিন সকালে ও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রাইভেট পড়ান।

 

কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তার সকালে ও ছুটির পর প্রাইভেট পড়ান। সিনিয়র শিক্ষকদের দেখাদেখি রাবেয়া রুমা ও জাহিদ খান প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছেন। একমাত্র লাবলী খানম প্রাইভেট পড়ান না। তবে অন্যদের দেখাদেখি তিনি যেকোন সময় শুরু করতে পারেন।

 

পরীক্ষায় ফেল করানো ও ক্লাস থেকে বের করা সহ নানা হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা। তারা অনেক সময় প্রাইভেট শেষ করে হাজিরা দিয়ে চলে আসেন উপজেলা সদরে সেখানে চলে নানা খোশ গল্প। তাদের দুজনের ক্লাস নেন দুজন প্যারা শিক্ষক আর তাদের হয়ে প্রাইভেট পড়ান তাদের স্ত্রীরা। বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কারনে প্রতি মাসেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

 

একজন অভিভাবক জানান, বাংলাদেশে এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই যেখানে মাসিক বেতন দিয়ে বাচ্চাদের পড়তে হয়। আবার জোর করে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়নো হয়। এই স্কুল টা একটা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে। দুই শিক্ষক দম্পতি ও তাদের বাচ্চাকাচ্চা মিলে একদম যাচ্ছেতাই অবস্থা। প্রধান শিক্ষক অনেক কিছু দেখেও দেখেন না। আমারাও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাই না, কারন খালিদ স্যার স্থানীয় এবং সাহেবুল স্যার রাজনৈতিক প্রভাব খাটায়। সম্বব হলে বাচ্চাদের অন্য স্কুলে পড়াবো।

 

সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন বলেন, সবাই প্রাইভেট পড়ায়, তবে কেউ স্কুলে টাইমে পড়ায় না। আর আমাদের স্কুলে একজন প্যারা শিক্ষক আছে, কমিটির মাধ্যমে বাচ্চাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে তাকে বেতন দেওয়া হয়। আরেকজন আছে তাকে কোন বেতন দেওয়া হয় না। প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাকে বলা হলে আজকের মত পড়াচ্ছেন বলে জানান।

 

এই বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন বলেন, শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কোন নিয়ম নাই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ার কোন বৈধতা নাই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

 

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন,শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর নিয়ম নেই, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্কুল নয় যেন কোচিং সেন্টার: ৮ শিক্ষকের ৬ জনই স্কুলে পড়ান প্রাইভেট

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

স্কুল নয় যেন কোচিং সেন্টার: প্রাথমিকে পড়তে হয় মাসিক বেতন দিয়ে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো অনেক আগে থেকে নিষিদ্ধ থাকলে মানেন না ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ৮ জন শিক্ষকের ৬ জনই শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ান।

 

এদের কয়েকজন আবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিক্ষার্থীদের খাবার ও খেলাধুলার সুজোগ না দিয়ে ঐ সময় প্রাইভেট পড়ান। আবার কেউ ক্লাস না থাকার সময়ে প্রাইভেট পড়ান। ক্লাস টাইমের বাইরে শ্রেনী কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

 

তবে সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে ঐ বিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে অধ্যয়ন করবে এটাই সরকারি নিয়ম। তবে সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়তো বাংলাদেশের একমাত্র স্কুল যেখানে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দিয়ে লেখাপড়া করতে হয়।

 

শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ মিলে খরচ করেন এবং কিছু টাকা দিয়ে দুজন প্যারা শিক্ষক রাখা হয়েছে, তাদের নামমাত্র কিছু বেতন দেওয়া হয়।

 

বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক এর মধ্যে দুটি শিক্ষক দম্পতি রয়েছে। নাজমা আক্তার প্রধান শিক্ষক তিনি কোন প্রাইভেট পড়ান না, তবে কাউকে নিষেধও করেন না। অভিযোগ রয়েছে ঐ শিক্ষকদের কাছ থেকে নানা সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়া সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার দম্পতি প্রতিদিন সকালে ও ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রাইভেট পড়ান।

 

কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তার সকালে ও ছুটির পর প্রাইভেট পড়ান। সিনিয়র শিক্ষকদের দেখাদেখি রাবেয়া রুমা ও জাহিদ খান প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেছেন। একমাত্র লাবলী খানম প্রাইভেট পড়ান না। তবে অন্যদের দেখাদেখি তিনি যেকোন সময় শুরু করতে পারেন।

 

পরীক্ষায় ফেল করানো ও ক্লাস থেকে বের করা সহ নানা হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা। তারা অনেক সময় প্রাইভেট শেষ করে হাজিরা দিয়ে চলে আসেন উপজেলা সদরে সেখানে চলে নানা খোশ গল্প। তাদের দুজনের ক্লাস নেন দুজন প্যারা শিক্ষক আর তাদের হয়ে প্রাইভেট পড়ান তাদের স্ত্রীরা। বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কারনে প্রতি মাসেই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গুনতে হচ্ছে সরকারকে।

 

একজন অভিভাবক জানান, বাংলাদেশে এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই যেখানে মাসিক বেতন দিয়ে বাচ্চাদের পড়তে হয়। আবার জোর করে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়নো হয়। এই স্কুল টা একটা পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র হয়ে গেছে। দুই শিক্ষক দম্পতি ও তাদের বাচ্চাকাচ্চা মিলে একদম যাচ্ছেতাই অবস্থা। প্রধান শিক্ষক অনেক কিছু দেখেও দেখেন না। আমারাও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাই না, কারন খালিদ স্যার স্থানীয় এবং সাহেবুল স্যার রাজনৈতিক প্রভাব খাটায়। সম্বব হলে বাচ্চাদের অন্য স্কুলে পড়াবো।

 

সিংহপ্রতাপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন বলেন, সবাই প্রাইভেট পড়ায়, তবে কেউ স্কুলে টাইমে পড়ায় না। আর আমাদের স্কুলে একজন প্যারা শিক্ষক আছে, কমিটির মাধ্যমে বাচ্চাদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে তাকে বেতন দেওয়া হয়। আরেকজন আছে তাকে কোন বেতন দেওয়া হয় না। প্রাইভেট পড়ানোর সময় তাকে বলা হলে আজকের মত পড়াচ্ছেন বলে জানান।

 

এই বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেম উদ্দিন বলেন, শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কোন নিয়ম নাই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ার কোন বৈধতা নাই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

 

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন বলেন,শ্রেণি কক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর নিয়ম নেই, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন জানান, এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।